কেন “ডেমোনস্ট্রেশন অফ ইগো ইজ ব্যাড” এন্ড ডেস্ট্রাকটিভ।
জনগণ দৌড়ায়। তারা দৌড়ায় পিছে ফেলে আসার সময় কে ধরতে! তারা দৌড়ায় ভবিষ্যৎকে আরও দ্রুত কাছে পেতে! এভাবে তারা দৌড়ায়।আর সকলে মিলেই দৌড়ায়। আধুনিক বিশ্বে গণতন্ত্র আছে এমন যেকোনো রাষ্ট্রের মধ্যেই জনতা বা সাধারণ মানুষের জীবনচিত্র প্রচুর ব্যস্ততায় ভরা। যেকোনো দেশেরই জনগণের জীবনের এই চালচ্চিত্র আলাদা আলাদা রকমের হলেও এটা পরিষ্কার বোঝা যায় যে আসলে সাজানো গোছানো জীবনের আড়ালে চাপিয়ে দেয়া অনেক বৈষম্য। এই চালচিত্র এখন কোথাও কোথাও আবার কোন অসম প্রকৃতিতে ভিন্ন রকমের স্থবিরতায় আর দেখা যাবে না বরং সর্বত্রই সবাই যেন একই রকমের ব্যাতিব্যস্ত হয়েছে।
ভ্রান্ত, উদ্ভ্রান্ত, বিভ্রান্ত বা দিকভ্রান্ত সে যে কারণেই হোক না কেন।মানুষ দৌড়াবেই! কিংবা কোন কিছু না হলেও --তখনও তো মানুষ দৌড়াবে!!! নিজের ক্ষুদ্র শরীরটা নিয়ে অপসৃয়মান হয় যায়,অথবা চটপটে ভাবে কায়া থেকে ছায়া হয়ে পড়ে,কিন্তু তবু সে দৌড়াবেই। এ যেন কোন সুযোগের সদ্ব্যবহার। সময়কে অনুমান করতে পারা।এবং বৈষম্য থেকে উঠে দাড়ানো।
তার চনমনে শরীর নিয়ে থাকে আড়ে আড়ে, সে ও তো দৌড়াবে। কিংবা কেউ কোথাও তার হাঁসফাঁস বিশাল বপু নিয়ে, তাহলেও কিন্তু-- মানুষ দৌড়াবেই।
এরা মানুষ-- এদের একটি মন ও আছে।
মুভি বা সিনেমা দেখার মানসিকতা যাদের আছে তারা মানুষের এই ব্যস্ত জীবনযাপন খুবই পছন্দ করে থাকে। মানুষের জীবন পুরোপুরি মসৃণ হয় না কোন দিনই।আর জীবন তো সাদামাটা যাপন আহামরি এমন কিছুই তো নয়। তার জীবন অনেক অমসৃণ খানাখন্দকে ভরা থাকে যেটা সে অগ্রিম দেখতে না পারলেও আন্দাজ করত পারে। ভয়-ভীতি-সংগ্রাম মুখর এবং নানান ধরনের শত্রুতার সাথে নিত্য পাল্লা দিয়ে টিকে থাকার জন্য সকল প্রয়োজনগুলি তাকে মেটাতে হয় প্রতিদিন। সেই হিসেবে মানুষের জীবন কিছুটা পাশবিক হয়ে গেলেও হতে পারে-- অদূর ভবিষ্যতে কোন একদিন হয়ত হবেও।...ভয়াবহ!!
তাহলে এজন্যই কি মানুষ; তার প্রথম পছন্দ হচ্ছে দৌড়...!! কিন্তু দৌড়ের সাথে তো (#দৌড় প্রতিযোগিতা) বা (# race) জাতীর সঙ্গে সভ্যতার সঙ্গে একটি বিরাট সম্পর্ক আছে। অন্তত এমন একটা পরিবর্তন এতদিনে হয়ে গেছে এই পৃথিবীতে-- আর এই বাস্তবতাই কি আমরা এখন চারিদিকে দেখতে পাচ্ছি।
অন্যকথায় দৌড় একটি দূর-নীতির নামও হয়। কিংবা হয়তোবা দৌড় একটি "দূরবীণ ছাড়া দুর্বিনীত" শ্রেণীর উদ্দেশ্যমূলক কোন আচরণ, এবং তারই উদ্যেশ্য পূরনের জন্য আশু পদক্ষেপ--এমনও তো হতে পারে।
হতে পারে দৌড়, এটা কোন শাণিত বয়ান এবং একটি গোষ্ঠির কিছু অস্বাভাবিক আচরণ।
ইগো প্রসঙ্গটি আসলে তখন এই দৌড়ের (# race) সাথে মানুষের ব্যক্তি জীবনের ইগো তাহলে কিভাবে সম্পর্কিত।
মানুষের জীবন অতি ক্ষুদ্র। কিন্তু জীবনটা আরো ক্ষুদ্র হয়ে পড়ে যখন আমরা এটাও আরো জানতে পারি এবং নিজেরা এটা চোখেই দেখি যে সামগ্রিক অর্থে জীবনটি ছিল সবদিক থেকে শুধু ক্ষুদ্রতায় ভরা। কিন্তু এটা অত্যন্ত অদ্ভুত বোধ হতে পারে তখন, যখন আমরা কেউই এরজন্য নিজেদেরকে কোন দোষ দেই না।এটা একদমই ভুলে যাই তখন, এই যে "আমরা"-- গতিময় জীবনের এই গতিহীন "আমরা" তাহলে কারা। আমরা কি উন্নাসীক হচ্ছি আরো।আর হলেও তো আমরা আমাদের সৃষ্টিকর্তা কে কোনদিন তো এজন্য দোষ দিচ্ছি না। আর আমাদের অন্তরের কান্না, দুঃখবোধ, এটা আমাদের নিজেদেরই তৈরি করা কিনা এটাও আমরা জানিনা-- যেন এসব পারিপার্শ্বিক ঘূর্ণাবর্তের সঙ্গত কোন কারণ থাকলেও তার কিছুই আমরা জানিনা-- কিছুই বুঝিনা। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্য যখন এই সমস্ত ক্ষুদ্রতাকে ঘিরে ধরেই প্রত্যহ এই জীবনটি আমাদের আরো ক্ষুদ্রময় হয়ে যাচ্ছে-- সময় দিনকে দিন এভাবে পারও হয়ে যায়। তাই জীবন যতটা অসহনীয় হয়ে পড়েছে ইতিমধ্যেই, তার জন্য যেটা দায়ী-- শুরুর দিকের সেই সূচনার সময়কার ওইসব ক্ষুদ্রতাকে খুঁজে দেখার জন্য যেন কেউই আজকে উপস্থিত নেই। আর দোষারোপ করার মতো সক্ষমতা সেরকম থাকা তো দূরেই থাক।দোষী সাব্যস্ত করার মত পুরো দুনিয়াতে এমন লোকের হদিস কোথাও একদমই নেই।
কিন্তু মানুষ যদি হিংস্র হয়ে পড়ে তখন সেটা পশুর থেকেও আরো নিম্নস্তরের কার্যকলাপ এ তখন জড়িত হয়ে যায়। পশুর হিংসতা শুধু তার খাদ্য সংগ্রহের জন্য এবং পেটের খুন্নীবৃত্তি মেটানোর পরে তার শারীরিক সক্ষম অবস্থানের তুলনায় টিকে যাওয়া এবং ওই বন্য মাধ্যমে অতঃপর খাদ্য সংগ্রহ করে টিকে থাকার প্রয়োজন তারও কাছেও আছে।
কিন্তু হায় ,জীবন-- এ তো বড়ই ক্ষণস্থায়ী। জীবনে যে কোনো কিছুই বেশিদিন টিকে থাকে না। একদিন না একদিন ক্ষয়িষ্ণুতা সবকিছুকে ঘিরে ধরবেই। হোক সেটা বস্তু অথবা জীবন! মানুষের এই বোধ থাকে যে ক্ষয়িষ্ণুতা এক সময় না একসময় তার জীবনেও প্রকাশ পাবে। এবং এই ক্ষয়িষ্ণুতা যখন তাকে পেয়ে বসে ওই মুহূর্তে তার কোন পার্থিব জ্ঞানই আর কাজে আসে না তাকে জীবিত রাখার জন্য। তার সকল জ্ঞানগর্মি তখন শুধুমাত্র পরহিতার্থে বিতরণের জন্য অবসরে যায়...। ইত্যবসরে সেই জ্ঞানের ভিতর বসতি করা তার নিজস্ব কোন ইগো বা অহমিকা প্রকাশ পাওয়ার (#এমনকি) কোন বিন্দুমাত্র সম্ভাবনাও নাই। এমনকি এই বয়সে পৌঁছে গেলে একজন veteran সৈনিকও তার যুদ্ধজয়ের স্মৃতি ঘেঁটে, তার জীবনের স্মৃতিচারণমূলক কোন ইগো সে কখনই প্রকাশ করবে না। আসলে ব্যাপারটা হল এরকম, ওই বয়সে একজন বৃদ্ধ ব্যক্তির মন মানসিকতা স্বভাবতই 'sick and tired' থাকবে। জ্ঞানের কাছে আত্মসমর্পণ সে করবেই এবং ইগো বর্জন করবে।
কিন্তু যেভাবে মানুষের ইগো তৈরি হয় বা এই যে ইগো, তার প্রকৃতিই বা কেমনতর? এটা এমন হচ্ছে কেন। অন্যের সঙ্গে সম্পৃক্ততা আছে, সংযুক্ততা আছে এমনতর বিষয়গুলির সঙ্গে (# সঙ্গে) কোন ব্যাক্তি যদি তার নিজের ব্যাক্তিত্ব -- অর্থাৎ তার একান্ত নিজস্ব অথরিটিকে সংযুক্ত করে ফেলে, বা একত্র করে গুলিয়ে ফেলে তখন ইগো মাথাচাড়া দিবে। তখন যে কোন ব্যক্তির মনেই তুলনামূলক ধারনায় একটি ইগোর জন্ম হতে পারে।
মানুষের মধ্যে সভাবতঃ কিছু দুর্নীতি থাকে। যেমন রাজনৈতিক দুর্নীতি, সামাজিক দুর্নীতি, অর্থনৈতিক দুর্নীতি, ঐতিহাসিক দুর্নীতি,পারিবারিক দুর্নীতি ইত্যাদি ইত্যাদি।
আর এই দুর্নীতির স্বরূপ দুইটি।
দূর্নীতির একটি রূপ হল সেটা একান্ত ব্যক্তিগতভাবে হচ্ছে। অন্যের সম্পৃক্ততা তাতে থাকলেও দায় থাকে না বললেই হয়।এক্ষেত্রে ঘটনা হচ্ছে এমন কোন কোন মানুষ সুযোগ বুঝে যখন অর্থনৈতিক দুর্নীতির প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। ব্যক্তির বা রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ত্রুটিপূর্ণ থাকলে এবং যদি সততার সঙ্গে ও নিষ্ঠার সাথে আমানত রক্ষা করা না হয় তখন এ ধরনের দুর্নীতি জালে অনেক মানুষ জড়িয়ে পড়ে। বহু দেশেই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এই ধরনের দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত হচছে।
সমাজের মধ্যে কেউ কেউ সচেতন ভাবেই এমন দুর্নীতিতে জড়ায় সেটা আমরা জানি। আবার যারা অসচেতন ভাবে অথবা প্রচলিত প্রথার অনুসরণ করতে গিয়ে বাধ্য হয়ে পরোক্ষ কারনে এইধরনের রাজনৈতিক দুর্নীতি, সামাজিক দুর্নীতি, ঐতিহাসিক দুর্নীতি,ক্ষমতার দূর্নীতি,পারিবারিক দুর্নীতির সঙ্গে (#অবলীলায়) সম্পৃক্ত হয়ে গিয়ে পরে আসলে এইভাবে অর্থনৈতিক দুর্নীতির জালে জড়ায়।
অপর ধরনের দুর্নীতি হচ্ছে, মানুষ যখন অন্যের গোপনীয় জ্ঞান বা অন্য কারো ব্যাক্তিগত মাধ্যম (ব্যাক্তি পরিচিতি,কর্মপদ্ধতি, বা জীবন দর্শন ইত্যাদি) ব্যবহার করে জেনেছে এমনসব বিষয়গুলিকে নিজের জ্ঞান বিজ্ঞান মনে করে নেয় বা কপিরাইট করে নিয়ে নিজেদের অর্জিত সম্পদ বলে ধরে নেয়। যদিও এসব জ্ঞানের আপাতত কোন অর্থ আছে কিনা কিংবা মূল্য কতটুকু আছে অনেকের কাছেই তা বোধগম্য হচ্ছে না। যদি এই ধরনের জ্ঞান তার কাছে মূল্যবান না মনে হয় বা ইচ্ছাকৃত চাপিয়ে দেওয়া বাধ্যবাধকতা মনে হয়, তখন তার প্রতিক্রিয়া হয় মারাত্মক এবং জ্ঞানের সূফল না হয়ে হয়ে পড়ে বিরূপ প্রভাব বিস্তারকারী। আবার সে সকল জ্ঞান যদি তার কাছে কিছুটা হলেও মূল্যবান মনে হয় তখনও এসব তথ্যকে তারা অর্থপূর্ণ কিছু ঘটানো হচ্ছে বলে তাকে তখন নিজেদের অধিকার ভেবে নিয়ে মানবাধিকারের নামে তারাই ওইটুকু জ্ঞানের ভান্ডার (#ভেন্ডর) হয় এবং ফলাফলটা একেবারেই আত্তীকরণ করে ফেলে। তাহলে কি এধরনের জ্ঞান সামগ্রিকতার বিচারে কি সার্বজনীন জ্ঞান হয়।নাহলে পরে এভাবে আত্বিকরনের মধ্য দিয়ে এই তথ্য উপাত্ত এবং জ্ঞান তাদের নিজেদের মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন অর্থে প্রকাশিত হয়।আর এভাবে সার্বজনীনতার একপ্রকার জগাখিচুড়ী বাস্তবতার মধ্য দিয়ে তারা পরবর্তিতে সত্য মিথ্যার চর্চাটা চালায়। সার্বজনীনতার পরিচিতি এবং উদ্দেশ্য এ অবস্থাটিকে স্পর্শ করে বটে কিন্তু ভাষা কিংবা চর্চার ধারনায় তবুও অস্পস্ট কিছু খারাপ উদ্যেশ্য লুক্কায়িত রয়।
উদাহরণ স্বরূপ যেমন, সিনেমার সেলিব্রিটিদের সম্বন্ধে পরোক্ষ ভাবে যে সব কিছু তথ্য মিডিয়ার মাধ্যমে আজকাল জানা যায় সেসব কিছু। আর তাদের সেইসব অর্থনৈতিক সাফল্যের বিষয়গুলি নিয়ে অনেকেরই নিজেদের মধ্যে এক প্রকার দূরত্ব ব্যঞ্জক সামাজিক প্রভাবকের উপস্থিতি আছে বলেই এমন অবস্থাকে সত্য ধরে নিচ্ছে। কারণ এর পিছনে আসলেই গোপনীয় একটি বিরাট অর্থনৈতিক ভূমিকা তো সক্রিয় রয়েছে। তাই অর্থনৈতিক মাপকাঠিতে সাধারন মনের আশা আকাঙ্গখা এবং তার মানদণ্ড নিয়ে জ্ঞানভিত্তিক ভাবনা বিচার বিশ্লেষন এবং তার স্বরূপ কি রকম হতে পারে তা নিয়ে সবাই এখনই লাভ লোকসানের আলোচনায় মত্ত হয়। সমালোচনাও চলে তবে ভবিষ্যতের বিষয় গুলিও নির্বাচন করতে পারে। এখানেই কিছু জ্ঞানভিত্তিক কপিরাইটের সাংঘর্ষিক অবস্থান লক্ষ্য করা যায়।
কিন্তু তারপরও কথা থাকে।আলোচ্য বিষয়টি যদি শুধুমাত্র কোন সাধারণ জ্ঞানের আওতাভুক্ত হয় কিন্তু তারপরও যখন এটা সহজাত বিনোদনের মত প্রকৃতির নয়। তখন? তখন কি হবে এইরকম অবস্থায় কি ব্যবস্থাপনা হতে পারে? এমনটা হলে পরে একটি ভিন্নমাত্রার প্রাকৃতিক বিনোদনের ব্যবস্থা মানুষ নিজেই সহজাতভাবে ভেবে নিবে।এর কারনটি অবশ্যই এই জ্ঞানের কিছুমাত্রায় সার্বজনীনতা।এবং অংশগ্রহনের পরিস্থিতি।
ঘটনা এমন কোন কিছু হলে, তখন শুধু এটা সবাই একসাথে বুঝতে পারলেই হল, বাকি দায়-দায়িত্ব কেউই তখন আর নিতে চাইবে না। কারন হচ্ছে একটি সর্বজনীনতা। একটি বিজাতীয় বোধের দ্বারা উদ্বুদ্ধ বা তাড়িত হয়ে গেলে আসল পরিস্থিতি রূপলাভ করবে তখন অনেকেই তার বিপক্ষে অবস্থানটি বেছেই নেবে। মানবাধিকারের বিষয়টিও এপর্যায়ে এসে তখনও খুবই অস্পষ্ট মনে হবে, এটা নিশ্চিত। তখন সব মানুষ তাদের অনায়াস সাধ্য এই জ্ঞানের আসল প্রকৃতি নিয়ে গবেষণায় মেতে উঠে এবং এমন কোন ব্যাবচ্ছেদ (anatomi) নাই যা তারা বাস্তবায়ন করতে মেতে উঠে না ব্যাস্ত হয় না। কারণ এই যে, এসব তো প্রাপ্ত জ্ঞান তাইতো সেই জ্ঞানের অর্থনৈতিক মূল্যায়ন তারা ইতিমধ্যেই জেনে গেছে, তাই এসব কার্যকলাপের পক্ষে কোথাও কোনো যৌক্তিকতা আছে কিনা সেটা তারা আর খুঁজে দেখে না। বিশেষ ধরনের দুর্নীতির এক ধরনের দ্বৈত প্রকৃতি ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ লাভ করে এভাবেই।
এরাই হচ্ছে এই দ্বিতীয় প্রকারের দুর্নীতিবাজ।
প্রথম ধরনের দুর্নীতি সম্পূর্ণরূপে অর্থনৈতিক হলেও দ্বিতীয় প্রকার দুর্নীতি কিন্তু পুরোপুরি অর্থনৈতিক নয়। কারণ দ্বিতীয় প্রকারের দুর্নীতির স্বরূপ হচ্ছে ভাষাভিত্তিক বা বর্ণনা (#description) নির্ভর। অথবা এমন হতে পারে যে কেবলমাত্র অবর্ণনীয় রূপক এবং সেরূপ কিছু ভাবধারা নিয়ে তৈরি হওয়া কিছু sign language এর সমাবেশ। কিন্তু এখানে ভাষাটাই হল মুখ্য বিষয়। কিন্তু ভাষা আর সাহস (# boldness) কখনোই synonymous বা সমর্থক হবে না। বর্ণনার সামর্থ থাকা সত্বেও ভাষা সবসময় আংশিক বর্ণিত হতে পরে বা লেখনীর মান বিন্যাসে বা বোধগম্যতায় সেসব একদম অবর্ণনীয়ও থাকতে পারে।
যেমন...
'সেদিন দেখিনু রেলে;
কুলি বলে এক বাবু সাব তারে ঠেলে দিল নিচে ফেলে।
চোখ ফেটে এলো জল,
এমনি করিয়া জগত জুড়িয়া মার খাবে দুর্বল।'
প্রথম দুই লাইন হল সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ এর সিম্বল। আর পরের দুই লাইন হল ভাষা-- বর্ণিত ভাষা।
Sign language এর ভিতরে যে boldness রয়েছে ভাষার মধ্যে ততটা সাহস কিন্তু নেই।কিন্তু প্রশ্নটি ঠিকই আছে। এটাই আসল কথা।
দ্বিতীয় প্রকারের দুর্নীতি হলো সেটাই যেটা বর্ণিল ভাষার ভিতরে শুধু লুকিয়েই থাকে।পুরাপুরি দার্শনীক ভাষা বা অতি স্বল্পমাত্রার ব্যবহারিক। কোনটিকে প্রাধন্য দেয়া উচিৎ সেটাও আলোচ্যসূচীতে স্থান পাচ্ছে না এমন।
এভাবে সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ব্যক্তিবিশেষের কৃতিত্বের উপর ভিত্তি করে যারা নিজেদের ভবিষ্যৎ অবস্থানকে আরো সুদৃঢ় করার সুযোগ খুঁজে ফিরে তারা অন্যায়ভাবে হলেও এই দ্বিতীয় প্রকারের দুর্নীতি করে থাকে। এরা তাদের অভিজ্ঞ চোখ দিয়ে সহজে বুঝে যায়, পক্ষাবলম্বন করে নেয় এবং মানুষের যে কোন অসামর্থতাকেও অসৎ উপায়ে সহজে পুঁজি করতেও প্রবৃত হয়। এই ধরনের লোকেরা গোপনে কোন অর্থনৈতিক সুবিধা অর্জনের মতো অপরাধ না করতেও পারে কিন্তু সচেতনভাবে ওরা গণমাধ্যমের ভিতরে ঠিকই ঢুকে যায় এবং সেখান অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলি পরিবর্তন করে দিয়ে খুব মারাত্মক কিছু সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি করতে সক্ষম (#পারঙ্গম)।
প্রথম প্রকার দুর্নীতি আমাদের খুবই পরিচিত। মানুষ যখন জ্ঞানের মধ্যে বসবাস করেও বিবিধ ইন্টারেস্ট সম্বন্ধে মারাত্মক অজ্ঞানতার পরিচয় দিয়ে থাকে তখন এ ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারি করে থাকে, লেনদেনের মাধ্যমে দুর্নীতি হয়। যেমন অর্থ সম্পদের প্রতি লালসা থেকে যেসব দুর্নীতি ঘটে থাকে সেগুলি হল এই ধরনের।
কিন্তু মানুষের মনে যখন কিছুটা আলোর সঞ্চার ঘটে আর সেই আলোটা যদি জ্ঞানের আলো হয়ে থাকে তাহলে তার ওই জ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণ করা আবশ্যকীয় হয়ে যায়। শুধুমাত্র প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার ভেতর দিয়ে এর কাঙ্ক্ষিত রূপটি খোঁজা অথবা সাময়িক রূপায়ণ করা কোন দিনই সম্ভব নয়। অর্থাৎ এই জ্ঞান সে কি রূপে লাভ করল সে বিষয়ে তার ব্যাক্তিগত মতামত থাকাও অত্যন্ত জরুরী।দার্শনীক তর্কের কথা বাদ। সামাজিকভাবে যেসব জ্ঞান মানুষ লাভ করে থাকে তার ভিতরে সামাজিকতার নতুন পরিবর্তন বা চালচলন গুলিও সুস্পষ্ট হয়ে ফুটে ওঠে। অর্থাৎ এই যে নতুন জ্ঞান--এটা দেখা যাবে এবং এটা বোঝাও যাবে। হয়তো দ্বান্দিক বস্তুবাদে ধরাছোঁয়াও যাবে। Dialectic materialism
অর্থাৎ এই যে জ্ঞান এর মাধ্যমে সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের ভিতরও কিছুটা পরিবর্তন অবশ্যই লক্ষ্য করা যাবে। পরবর্তীতে হবে বিজ্ঞান।
কথায় বলে না, "পুরাতন পাগলে ভাত পায় না আবার নতুন পাগল জন্ম নেয়"। অর্থাৎ অন্ধকার সময়ের যেসব দুর্নীতি গুলিকে পরবর্তীকালে ঐতিহাসিক জ্ঞান হিসেবে পরিচালনা করা হতো বর্তমান প্রেক্ষিতে নতুন কোন সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে সেই সব "ইতি-অজ্ঞান ও বর্তুলাকার-বিজ্ঞ" লোকগুলি আবার সচেতনভাবে বর্তমানে যখন নতুনভাবে আত্মপ্রকাশ করে থাকে একালে।এরা নতুন কনশাস Concious তৈরী করতে আগ্রহী থাকে। একেই হয়তো বলে "নতুন বোতলে পুরাতন মদ"। হয়তো ওদের বয়স কম ছিল সেই হিসেবে তাদের অভিজ্ঞতাও হয়তো কমই থাকবে কিন্তু তাই বলে এই যুগের এই নাদান গোষ্ঠীটি, এদের "বিজ্ঞ-বর্তুল" ইগোটি যে কোন অংশে কমে যাবে এমন ধারণা করা একটু দুর্লভ সময় বটে। এই সোনা দানা নাদান গোষ্ঠীটির ইগো বর্তমানে অনেক বেশি।
দুর্নীতি সমাজকে সর্বগ্রাসি করে ফেলবে এমনটা হওয়ার কথা কিন্তু নয়। অথচ আমরা কিন্তু এখন শুধুমাত্র সেটাই যে আমাদের চতুষ্পার্শ দেখতে পাচ্ছি।এটা কি ধরনের কনশাস Concious তাহলে। কেননা এমনটা যদি স্বীকার করা হয়েই থাকে যে অনেক দুর্নীতি হচ্ছে এখন, তাহলে আগেই তো এর পক্ষে-বিপক্ষে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামত গড়ে উঠতে পারতো। অথচ তেমনটা কোথাও কেন দেখা যায়নি কেন। মাঝেমধ্যে নানান (#কেলেঙ্কারির) কথা ধরা পড়লেও আমরা তার আসল হদিস যে কি ছিল সেটা তো কেউই জানিনা। হয়তো দুর্নীতির দ্বারা সৃষ্টি মানুষদের এসব বিবিধ দৃষ্টিভঙ্গি (#কে) নানা ধরনের উদ্ভাবনী শক্তি নিয়ে আরো উন্নয়নের পদ্ধতির জন্য অনেকেই কাজ করে যাবে, এটাই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু বিবিধ দৃষ্টিভঙ্গির মধ্যে একটি মাত্র ভয়াবহ বৈষম্য তবে দেখা যাচ্ছে কেন? সম্ভবত তলে তলে দুর্নীতিই চলবে, সবার মনের মধ্যে তাহলে কি এমন ধরনের একটা একাত্মতা তৈরি হয়ে গেছে ইতিমধ্যেই। কি কারনে? বিবিধ ধরনের ইন্টারেস্ট এমনটাই যদি হবে তাহলে মানুষের একাট্টা হওয়ার কারণটার ভাগ্যে তবে কি হবে?
কারণ:- দুর্নীতি হল অত্যন্ত শক্তিশালী একটি মাধ্যম। অতি প্রাচীনকাল থেকেই আন্ডারগ্রাউন্ড গোষ্ঠী বা clandestine দলের কার্যক্রম ছিল বলে (#জানাযায়)। গোপনীয়ভাবে সরকারের ভিতরে কিংবা সরকার বহির্ভূত সংগঠনের ভিতর দিয়ে তারা এখনও দেশে দেশে কাজ করে থাকে।
এই ধরনের গোপনীয় সংগঠনগুলি খুব বেশি রকমের egoistic হয়ে থাকে। কারণ তাদের ভিতরে ক্ষমতাধর কিছু তথ্য মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করার পরক্রমশালি কম্পিউটার প্রোগ্রামে ই দুর্নীতি বিদ্যমান আছে। তাদের এই জারি থাকা ক্ষমতা খর্ব করা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার।
আর এই দ্বিতীয় ধরনের দুর্নীতিতে সমর্থন করার মাধ্যমে তারা অর্থনৈতিক সুবিধা তো লাভ করছেই বরং সমাজ এবং রাজনৈতিক সুবিধাও লাভ করে থাকে গোষ্ঠীভুক্ত সকল তৃতীয় পক্ষ এবং অন্তর্ভুক্ত চতুর্থ পক্ষ গণ। এমনকি সরকারকেও অনেক ক্ষেত্রেই তারা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। অধিকন্ত সন্ত্রাসবাদ পরিচালনার মাধ্যমে গুপ্তহত্যার সাথেও কোন কোন ক্ষেত্রে ওরা জড়িত থাকে।
আমরা অত্যন্ত স্তম্বিত হয়ে যাই যখন দেখি যে, কিভাবে সততা এবং নিষ্ঠাকে মানুষের কর্তব্য কর্মের সাথে মিশিয়ে দিয়ে এবং আধুনিক যুগের ধারাবাহিকতার সাথে নিয়মিত ক্রীতদাসদের মত একদম মিলিয়ে ফেলে একটি পরিপূর্ণ দুর্নীতির মাধ্যমে বসে থেকে, নির্লিপ্ত হয়ে সমস্ত খারাপ খারাপ কাজগুলি অনুমোদন করা যায়।
আর এভাবে ফলাফলস্বরূপ সাধারণ মানুষের মস্তিষ্ককে গুলিয়ে দেওয়া যায়। আইনকেও প্রশ্নবিদ্ধ করা যায়। প্রতিনিয়তই অবৈধ এসব কর্মকাণ্ডের একটি অবাক করা ডেমোস্ট্রেশন চলছে আমাদের চার পাশেই। কিন্তু কই? কেউ তো তবুও এই প্রসঙ্গে একটি টু শব্দ করে না; কোথাও কোন আওয়াজও তুলে না। কিন্তু আমরা খুব কম সংখ্যক লোক আছি সেটা ধরতে পারি বা বুঝতে পারি। এবং এসবকিছু অন্যকে বোঝানোর অক্ষমতা তখন দিনকে দিন সব মানুষের মনেই চরম রকমের অস্থিরতা সৃষ্টি করে তোলে। চারিদিকে দেখা যায় এক ধরনের নৈরাজ্য, এবং হয়তো আতঙ্ক। এমন ধরনের এই নৈরাজ্য যেন এটা বিগত সময়ের থেকেও আমাদের ভাবনা চিন্তার দুর্দশাগ্রস্থতার চিত্র অধিকতর একটি পশ্চাৎপদ সভ্যতা নির্দেশ করে।
এই সিস্টেমের ভিতরে আমরা নিজেরা প্রত্যেকেই শুধু এক একটি ইগো ধারণ করছি, অন্যদের সঙ্গে সেটা আবার ভাগাভাগিও করি এবং একটি গড্ডালিকা প্রবাহের সঙ্গে অবলীলায় তাল মিলিয়ে চলি। অর্থাৎ একটি মিথ্যা সার্জবনীন বাস্তবতার উপরে সবাই নিজেদের জন্যই সত্য তৈরি করে চলছে যেন প্রতিনিয়ত।
এখন এইসমস্ত কর্মকাণ্ডের সাক্ষী রয়েছে একমাত্র সময়।
কেউ হয়তো এসব বুঝলেও বুঝতে পারে, কিন্তু তারাও সেটা ভাষায় প্রকাশ করতে পারে না। কারণ ভয় পায়। বসবাস যোগ্যতা একদম হারানোর ভয় এবং সামান্য মানবিক বোধ বিকিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা।
অবশেষে বলতেই হবে যে, দৌড়ের মাধ্যমে মানুষ অবশ্যই কোন ভবিষ্যৎ(?!) দেখে থাকবে, সেজন্যই তো সবাই দৌড়ায়। কিন্তু সেই ভবিষ্যৎ কি শুধু তার নিজের জন্যই প্রযোজ্য হবে নাকি তা কেবল একটি বিশেষ গোস্টি তাদেরই জন্য -- একটা বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য প্রযোজ্য হবে; এটাও তো বোঝা দরকার আছে। এই যে দৌড় প্রতিযোগিতা চলছে এই দৌড় কি পুরো মানবজাতির জন্য দৌড়? নাকি এই দৌড় আখেরে মানবজাতির জন্য শুধুমাত্র একটি সামান্য পদক্ষেপ তৈরি করতে পারবে?
এমনও হতে পারে যে আধুনিক কালের দুর্বিনীত মানুষের জন্য দৌড়ই হতে পারে একটি ভালো শারীরিক ব্যায়াম। কিংবা হয়তোবা এটা কোন বৈজ্ঞানিক উপায়ে প্রস্তুতকৃত (# মনবাঞ্চা) নিবৃত্তির করসত হবে এবং জ্ঞানের ভান্ডারটি সমৃদ্ধ হবে।
তবে সবশেষে একটি কথা না বললেই নয়। তা হলো এই সৃষ্টি জগতের মধ্যে বা 'মা-খালু-কাত' এর মধ্যে মানুষ যেমন একটি সৃষ্টি তেমনি পশু-পাখি, কীটপতঙ্গ এবং অন্যান্য সৃষ্টিও তো রয়েছে। তাহলে মানুষের মধ্যে এবং পশুর ভিতরে যেটুকু আরাম-আয়েশ (এবং এর জন্য নিয়ন্ত্রণ) এর ভিতর দিয়ে মানুষ- প্রাণী (# হাইওয়ান) উভয়ের ক্ষেত্রে দিন যাপনের মধ্যেকার পার্থক্য টি কোথায়? পৃথিবীর মানুষ কি কারণে এত অস্থির হয়ে গেছে বর্তমান যুগে? মানুষ ইদানিং আরাম আয়েশ করতে পারলেও কিন্তু তার চিন্তার পরিধি তো ঠিকই অনেকখানি বেড়ে গেছে। বাড়বাড়ন্ত। এজন্যই কি অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে যে, জীবনটা এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি অনিশ্চিত।
কিন্তু পশুপাখি বোধহয় আগের মতই রয়েছে। তাই তারা এখনও অনেক নিশ্চিন্তেই আছে। মনে হয়, আরাম-আয়েশও তারা করতে পারে। কে যে মানুষ আর কাহারা যে পশু এটাও পশুপাখিরা বুঝে না।
লক্ষ লক্ষ বছর আগেকার প্রাণীজগতের তুলনায় বর্তমানের গৃহপালিত প্রাণীরা অনেক বেশি আরাম করতে পারে। কারণ তারা এখন সেবাও পাচ্ছে বাড়তি। প্রাণীদের ভিতরে মানুষের মত কোন দুর্নীতি কখনো নাই এবং তাই তাদের মনে কোন ইগোও তাই তৈরি হবে না। ইগো আর দুর্নীতি বেড়ে যাওয়াতে এই অস্থিরতা শুধু মাত্র মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
এদিকে মানবজাতির মধ্যে সাম্প্রতিক একটি পরিবর্তন খুব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রথমে সেটা ছিল ''আলোক অনুসরণ''। তারপর সেটা হোল "আলোর অনুসন্ধান'' ও পরে হয়ে গেল ''আলোক অনুধাবন''। কিন্তু ''আলোর প্রতিসরণ'' খুব কম মাধ্যমে দেখা যায়।এই প্রগতীকে তবে কি নামে পরিচিত করা যাবে। মানুষের মধ্যে এখন নানাবিধ বস্তুবাদী ইন্টারেস্ট, এবং এর পরিমাপ এতই ভয়াবহ রকম বেড়ে গেছে যে তেমনই তার সঙ্গে সঙ্গে দ্বান্দ্বিক একটি অবস্থানে থাকা সাদামাটা মানুষের সেই একমুখী গন্তব্যের চিরকালীন দ্বন্দ্বটিও আরো বাড়ছে। এটাও ভিন্ন ভিন্ন মাত্রায় অতিশয় বাড় বাড়ন্ত।
আগের তুলনায় মানুষের "একমুখী গন্তব্যে"র এই দ্বন্দ্ব অস্বাভাবিক বেশি মাত্রায় প্রকাশ পেয়েছে আজকাল। এই অস্থিরতা অদূর ভবিষ্যতে আরো বেড়ে যেতে পারে, গোল-মালে এইসব আজম যদি আরো ভয়াবহ ভাবে গোলমাল সৃষ্টি করে থাকে। তাহলে কি হবে। এইসব হল আসা-যাওয়া পথের ধারে বসে বসে দিন ক্ষণ গুনে আর কিছুক্ষণ সময় টাকা গুনে গুনে পার পাওয়ার উপায়।
এবং এই পর্যন্ত এসে "আমার কথাটি ফুরোলো, নটে গাছটি মুড়োলো"।
আলোচনার আলোচ্য সূচী বিষয়টি ছিল ইগো সংক্রান্ত। ইগো বিষয়ক কথা বলতে গিয়ে আমরা যে ভয়াবহ দুই প্রকারের দুর্নীতির চিত্র দেখতে পেয়েছি শেষোক্ত ঐ দুর্নীতি মানুষের সব "ফলস ইগো" কে আসলে বাড়িয়ে তোলে।
তাহলে দুর্নীতিবাজ এসব সমাজে ইগো বর্জনের কোন উপায় কি আসলে নাই?
সবশেষে সবার প্রতি আমার একটা সরল প্রশ্ন থাকবে। আপনি কি বিশ্বাস করেন যে, 'Government of the people by the people to the people and for the people'. গেটিসবার্গ এড্রেস এ বর্ণিত এটাই হবে গণতন্ত্রের স্বরূপ?
এই গণতন্ত্র একদিকে যেমন পুঁজিবাদী শক্তিকে সর্বাত্মক সমর্থন করে চলছে, আর অযোগ্য গোষ্ঠিকে ক্ষমতায় বসিয়ে নয়া সাম্রাজ্যবাদী উপায়ে শোষণের রাস্তাগুলিও তৈরি করে দেয়। অন্যদিকে অপরিসীম দুর্নীতি করার পথটিও এভাবেই মোক্ষম একটি গণতান্ত্রিক উপায়ের ছত্রছায়ায় বাতলে দিয়ে সার্বজনীনতার একটি সরলীকরণ পন্থা খুলে দিচ্ছে। আমার বর্ণিত ভাষা যদি বুঝতে পারা যায় তাহলে এর সত্যতাও প্রমাণিত।
কোন জাতির প্রকৃত অবস্থানটি বুঝতে, এবং তাদের জন্য সঠিক একটি ভবিষৎবাণী জানতে কর্মকান্ড পরিচালিত হয় পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দেশে এখন এই ধরনের একটি অত্যন্ত দুর্নীতিপরায়ণ শ্রেণীর দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে যেসব "হেডলেস ওয়ানস টেইল" (# Headless Tail) এর যেসব ভয়ানক ও উদ্ভট নানাবিধ এই যে ইন্টারেস্ট রয়েছে, ভবিষ্যৎ দুনিয়ার শিল্প এবং সাংস্কৃতিক পরিসরে এর কি ধরনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে সেটা আমি ‘আসলে’ই (#কেন জানি) বুঝি না।
তাই এখন থেকেই পাশ্চাত্যের পদলেহনকারী এবং সাম্রাজ্যবাদী শক্তির সহযোগী এই ধরনের দুষ্টচক্র ও "দুইনম্বরী গণতান্ত্রিক" উপায়ের মধ্য দিয়ে পরিচালিত এইসব অপরিসীম দুর্নীতিবাজদেরকে "না" বলার সময় এসেছে। যদি এইভাবে গণতান্ত্রিক শক্তির নাম নিয়ে শুধু ধনীক শ্রেণীর এইসব "পা চাটা গোষ্ঠীকে" এখনই "না" বলা হয় তাহলে ভবিষ্যতে এরা একটি ব্যাপক আকারের "হাড্ডি চোষা" গণতান্ত্রিক নামধারীদের তল্পিবাহক হবে নিশ্চয়ই। এবং পরাক্রম কোন রাষ্ট্র শক্তির সহযোগী হয়ে একদিন না একদিন আমাদেরই সমাজে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। এই মুহূর্তে সেটা হয়তো এখনই আমাদের ভাবনায় দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না।
ভাব প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রতীকের শক্তি প্রচলিত ভাষাভিত্তিক যোগাযোগের বর্ণিল শক্তির থেকেও অনেক অনেক বেশি আছে। কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার মাধ্যমে সেটি দেখানো হয়েছে।
কিন্তু বর্তমান বাস্তবতায় পর্যবেক্ষণ করলে যেটা দেখা যাবে তা হল, এই প্রতীকী শক্তিকে আমরা যথেষ্ট যথেষ্ট অবমাননা করেছি। Sign language ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রতিকী শক্তিকে মোটেও তুলে ধরতে পারি নাই, (#পক্ষান্তরে) শুধু এর অর্থহীন অবমাননা করা ছাড়া। এবং ভবিষ্যতে প্রতীকী শক্তির ব্যবহার এখনও যতটুকু চলে এবং যা ও বা রয়েছে ভবিষ্যতে এটা ততখানিও থাকবে বলে মনে হচ্ছে না। কারণ কোন মানুষই "এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে" যে তারা কেউই এই প্রতীক টি ধারণ করার যোগ্য নয়। (হয়তো এমন কেউ কখনো ছিলোনা) তারা তো শুধুমাত্র এক ধরনের সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করে থাকে, যার মধ্য দিয়ে তারা (#গত্যান্তরে) একমাত্র শুধু অপরিসীম দুঃখ এবং কষ্টেরই বাহক।
এখন কথা হচ্ছে এই যে নানাবিধ ছলচাতুরি চিন্তার বস্তুবাদী এইসব ইন্টারেস্ট,পৃথিবীর চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এবং যার বিভিন্নতা ও ব্যাপকতা নতুন যুগের মানুষের প্রয়োজন এবং চর্চার চাহিদা মাফিক এখন আরো অনেক প্রকট (# দাড়িয়ে গেছে) হয়েছে। এইধরনের একটি বিষম ক্ষেত্রে এসে মানুষ জন কিভাবে "ডাবল মার্চ" করবে,অর্থাৎ সবাই সামনের দিকে কিভাবে এগুবে আর এভাবে সবার মানবিক চাহিদা পূরণ জন্য একটি সমীকরণ তৈরি করবে সেই ভাবনাটি হচ্ছে এখন অত্যন্ত পীড়াদায়ক ভাবনা।
ভাষাভিত্তিক এই দুস্তর অবস্থানের কারণে জাতিতে আর জাতিতে কমিউনিকেশন অনেকটাই দুর্বল। এটা এতদিন ধরে জানাই ছিল। কিন্তু ভাষাভিত্তিক কমিউনিকেশন ঠিক কতটা দুর্বল সেটা এখন পর্যন্ত জানা যাচ্ছে না। তাই কিভাবে যে এ জাতীয় একটি বিশাল আয়োজন সামলানো যাবে সফলভাবে এটাই আধুনিক যুগের বড় চ্যালেঞ্জ। "এরা অত্যন্ত নাদান জাত"। আর যদি এই ভয়াবহ ভাবনা কারু সঙ্গে থাকে,তার মনের মধ্যে সুপ্ত অবস্থায় থাকে, তখন শয়নে স্বপনে জাগরণে মানুষটার ঘুমটাই হারাম হয়ে যাবে। তাহলে বুঝতে হবে ওই দেশে আর শান্তি নাইন। এখন আবার এদের সাথে (# আরো) যুক্ত হচ্ছে গণতন্ত্রের নামে পা চাটা সেই সব "খয়ের খা" জাতীয় তৃতীয় পক্ষ।
মন্তব্যসমূহ