সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

আবিষ্কার করা এবং বানানো এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য কি? কোনটি আবিষ্কার করা হয়েছে আর কোনটি তৈরি করা বা বানানো হয়েছে এই প্রশ্নের উত্তরে সমাধান কোথায়?

 আবিষ্কার করা এবং বানানো এই দুইয়ের মধ্যে মধ্যে পার্থক্য কি? কোনটি আবিষ্কার করা হয়েছে আর কোনটি তৈরি করা বা বানানো হয়েছে এই প্রশ্নের উত্তরে সমাধান কোথায়? 


আধুনিক যুগে আমরা বস্তুবাদী চিন্তাভাবনায় এতটা নিমগ্ন হতাম না যদি আমরা এটা বুঝতে পারতাম যে, আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের (ব্যবহৃত অথবা) কোন কোন অন্য বিষয়গুলি আবিষ্কার করা হয়েছে বা invented ছিল, আর কোন বিষয়গুলি (…) মানুষেরা বানিয়ে নিয়েছে।


প্রথমত বলা চলে যে মানুষ এখন যে রকম ভাবে ভোগবাদী চিন্তায় এত মগ্ন আছে এই ভোগের মধ্যে তার অধিকার কিভাবে গড়ে উঠলো বা কতটুকু আছে সেটা, বা অন্য যেকোন প্রয়োজনের চিন্তাতে তার অবদান কি আছে যদি সেই প্রসঙ্গে,তাহলে সেটা যাই হোক না কেন,বললে পরে এটা তখন বোঝা আবশ্যিক যে তার নিজস্ব কিছু অবদান সেখানে আদৌ আছে কিংবা নাই। 


অর্থাৎ মানুষ যে কোন কিছুই সভ্য এই জীবনে ভোগ করছে সে তো নিজেই সেটা আবিষ্কার করেনি! তাই অন্ততপক্ষে তার ভিতরে একটা রানার্সআপ মেন্টালিটি– বয়ক্রমে যেটা তার চোখে ধরা পড়া উচিৎ– তো থাকবে! কারণ এটা হচ্ছে নতুন করে আবিষ্কার করার একটি মানসিকতা– এটা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সভ্য মানুষের মধ্যে এখন নাই, বলা চলে।


আর আমাদের সমাজ জীবন, শহুর জীবন কিংবা সভ্যতার আলোকে এখন আমরা যা কিছুই দেখি এসবের মধ্যে যত কিছু বানানো হয়েছে সেখানে শ্রমিক বা ক্রীতদাসদেরই অবদান অনেক বেশি। সুবিধাভোগী মানুষ, যারা ভোগ করে; তাদের থেকেও অনেক বেশী।


আর এই জন্য মানুষের মন মানসিকতা একটি সঠিক চিন্তাধারার মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত করার জন্য এখন এটা এযুগে বোঝা অত্যন্ত জরুরী যে, প্রাচীন সমাজে ঠিক কি কি আবিষ্কার হয়েছিল? এবং আর কোন কোন বিষয় আশয়  সভ্যতার অগ্রসরতার সাথে সাথে মানুষ বানিয়ে নিয়েছে। এই দুটি বিষয়ে স্বচ্ছ ধারণা থাকলে পরে সামাজিক জীবন আরো অনেক উন্নত হবে, মানুষের মূল্যবোধ বেড়ে যাবে এবং মানুষের প্রতি মানুষের পরস্পরিক শ্রদ্ধাবোধও অনেক বেড়ে যেতে পারে। 


কিন্তু আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা যেরকম তথ্য ছাত্রদের দিয়ে থাকে সেটা যেমন অনেক অনেক চমকপ্রদ বিষয় তেমনি আবার contradictory হয় বটে। কারণ শিশুরা প্রথম যখন তথ্য ভান্ডার হাতে তুলে নেয় তারা তখন অবশ্যই চমকে উঠবে, কারণ  শিক্ষার যেটুকু institutionalized সেখান থেকেই তাকে বলা হয়েছে যে, এটা জ্ঞান ভান্ডার।


তাই তার কাছে এমনটাই সত্য বলে মনে হবে সারা জীবন ভর। কিন্তু এর অনেক পরে যদি জীবনে সে কোন একসময় বুঝতে পারে এর ভেতরে কোথায় কোথায় contradiction লুকিয়ে থাকে। এইসব কন্ট্রাডিকশন তার মনে জায়গা হওয়ার পরেই তখন থেকে তার নতুন চিন্তার ক্ষেত্রটি উম্মোচন হবে,কিন্তু তার আগে নয়।


বিজ্ঞানের আবিষ্কারগুলি একদিকে যেমন অত্যাধিক রকমের ব্যবহারিক ও একপেশে হয়ে গেছে আর অন্যদিকে দার্শনিক ভাবনাগুলি বা মানসিক শ্রমের মাধ্যমে বানানো মানুষের ভাষাভিত্তিক ও ব্যবহারিক সক্ষমতায় (knack)  তৈরি সাহিত্যভিত্তিক এই সভ্যতাটি অন্ধ একটি ভূমিকা গ্রহণ করার ফলে ক্রমান্বয়ে তা সভ্য মানুষেরই হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে এবং কিছু গোষ্ঠীর কুক্ষিগত হয়ে পড়ছে।


আর এজন্য প্রথমেই ধারণা থাকা উচিত আবিষ্কার এবং বানোয়াট বিষয় আশয়ের মধ্যে বা অন্য কথায় বললে, বানানো  জিনিসের সাথে আবিষ্কারের ঠিক কি কি ধরনের পার্থক্য আছে, বা কোন কোন ধরনের মিল বিরাজমান রয়েছে।


যেটা অতীতে আবিষ্কৃত একটি বিষয়  ছিল সেটা অবশ্যই মানব গোষ্ঠীর ভিতর সব মানুষই কিন্তু কখনো না কখনো জীবনে একবার হলেও সেই একই জিনিসটা নিজেই আবিষ্কার করতে পারে। এমন ঘটনা কিন্তু অনেকের জীবনেই ঘটে থাকে। 


এমনটা প্রত্যেকে চেষ্টা করবেই করবে। এটা মানুষের "উইল পাওয়ারের" একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।


এটা এখন দেখার বিষয় হল যে, প্রত্যেক মানুষ নিজের মনে সেই একই জিনিসটাই আবিষ্কার করবে? নাকি অন্যান্য কিছু ? বা হয়তো এমনও দেখা যেতে পারে যে, তারা প্রত্যেকে সেই একই জিনিসই বারবার আবিষ্কার করছে। তখন কি হতে পারে?


যখন বারবার আবিষ্কারের এই ঘটনাটা ঘটবে তখন এটা মারাত্মক সামাজিক সমস্যায় পরিণত হতে পারে। যদি ব্যবহারিক দৃষ্টিকোন গুলি মানুষের মনের মধ্যে কোন কিছু আবিষ্কারের সাথে সাথে এর প্রতিক্রিয়া হিসেবে আবিষ্কারটি নতুন কিংবা আগের বিষয় তা জানা অধিকন্ত এর কি কি সাম্প্রতিক ব্যাবহার রয়েছে সেটাও পর্যাপ্ত পরিমাণে জ্ঞানভাণ্ডার আগে থেকেই developed করা না থাকে তখন। 


কারণ তারা এভাবেই যখন একটি জিনিস বা মনোভাব আবিষ্কার করবে,তখন তারা নিজে নিজে এটাও বুঝবে যে এই জিনিসটার কতটা প্রয়োজন রয়েছে। অতি সাম্প্রতিক চিন্তাভাবনার অধিকারী সভ্য(?) মানুষেরা পুরানো আবিষ্কারগুলিকে এভাবেই নিজেদের মন মানসিকতা দিয়ে নুতন ভাববাদী চিন্তায় রঞ্জিত করে থাকে। কেননা আমাদের ভাববাদী মনের কোণে এই জীবনে আমরা শিশুকাল থেকেই বেড়ে ওঠার সাথে সাথে এমন অনেক আবিষ্কার করে থাকি যার প্রয়োজন নির্ধারণ করতে পরে আমাদের অনেক বেগ পেতে হয়। এমনটা আমাদের প্রত্যেকের জীবনে অভিজ্ঞতা হয়েছে। 


অথবা এমনও কেউ হয়তো সমাজে থাকবে নিজে নিজেই যে বুঝতে পারবে,--এটা আমিই পেয়েছি।


আর কিছু বানানোর ক্ষেত্রে যে ঘটনাটা ঘটে,সেটা অন্যরকম।

যেটা বানানো হয়, তার মধ্যে শ্রম,পরিশ্রম এবং মেধার ভাগ কোন কিছু আবিষ্কারের করার থেকেও অনেক অনেক বেশি থাকে। এবং চা বানানো হয়েছে এটা যে কোন অতীত অভিজ্ঞতার স্বরূপ বানানো হয়েছে এ ব্যাপারটা নির্দ্বিধায় বলা চলে। 


কেননা যে কোন জিনিসই বানানো হয়েছে সেটা বিশ্লেষণ করলেই দেখা যাবে যে, কোথাও কোন মানুষ বা কিছু মানব গোষ্ঠী কোন না কোন এক সময়ে সেটা বানায় এবং বাকি অন্যরা এভাবেই পরে তার অনুমোদনও দিয়ে দেয়।


মন্তব্যসমূহ

Most Viewd

সাইকোলজি থাকসেন। এবং এইসব ইতিহাস সে ও তো এতবড় না ও হতে পারতো। অতঃপর আমাদের এই বাস্তবতা।

  সাইকোলজি থাকসেন। এবং এইসব ইতিহাস সে তো এতবড় না ও হতে পারতো। অতঃপর আমাদের এই বাস্তবতা। চিরকালই মানবসমাজ কেবল পথই তৈরী করে না যাতায়াতকেও উন্নততর করে। এখন কোনটাকে দাম দিতে হবে আর কোনটাই বা ছেলেমানুষের মতই অবুঝদের বিষয়বস্তু হয়ে যায়। কিংবা হয়তো অসতর্কতায় তারপরই হয়ে গেল এক বা একাধিক কদর্য ইতিহাসের অংশবিশেষ। এসব কে ই বা জানে। আমাদের অচল সমাজকে সচল রাখতে কত কি ই না করি আমরা। সবার চেয়ে বড় যে কর্মযজ্ঞটি আছে তার নাম হল পরিকল্পনা প্রনয়ন এবং শুভযোগ থাকলে পরে তখন তার বাস্তবায়ন প্রসঙ্গ। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে যে সকল মানব সমাজের জন্যই কি সচলতা দরকারী। অথবা মনুষ্যজীবনের নানাধরনের অচলায়তনগুলির অনুমান সাপেক্ষে উন্নয়ন পরিকল্পনার আদৌ প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা। অথবা একটি সুন্দর ভবিষৎতের প্রত্যাশাকে মানুষের দ্বারে পৌঁছাতে হলে তাকে কি উপায়ে একটি সুস্থ সমাজিক জীবনের আলোকে এবং কিভাবে অথবা কেমন করে প্রতিফলিত হতে দেখা যায়। কিংবা কেমনতর সে অনুপস্থিতি যার দরুন এই মানুষের ভবিষৎকে কঠোর বাস্তবে ঠেলে দিয়ে পরে পৃথিবীর জীবন যাপনকে কিভাবে প্রভাবিত করতে পারে।

নরক বিশ্বাস করার পরেই দেখা যাবে যে অনেকের মনের মধ্যে ভালো না করার সামর্থ্য টিও গজিয়ে যায় এবং তারা এভাবেই নরকের দিকে ধাবিত হয়।

  নরক বিশ্বাস করার পরেই দেখা যাবে যে অনেকের মনের মধ্যে ভালো না করার সামর্থ্য টিও গজিয়ে যায় এবং তারা এভাবেই নরকের দিকে ধাবিত হয়। এমন অমানুষে আজকাল পৃথিবীর আনাচে-কানাচে ছেয়ে গেছে। এদের প্রধান পরিচয় হলো এরা নরকে বিশ্বাস করে।  এবং স্বর্গেও বিশ্বাস করে।  এরা এতই সাধু পুরুষ যে কোথাও কোন ধরনের বিষোদগার এরা করে না, করতে হয় না তাদের। কিন্তু চারিদিকে দেখা যাবে যে বিষোদগার দিয়ে সকল মাধ্যমকে ভরে রেখেছে এরাই। এরা তো অবশ্যই অবশ্যই নরকে যাবে। মূলত এদের বিশ্বাসের মধ্যে ভ্রান্তি রয়েছে! সেই ভ্রান্তিবিলাস নিয়ে তারা জীবন যাপন করেছে এখনো! কিন্তু আজ তাদের সেই ভ্রান্তি কে ভেঙে দিবে? তাদের শান্তির ঘুম কে ভাঙিয়ে দিল?  কিন্তু যারা নরকের কথা শুনেছে কিন্তু ভালো করে বুঝে নাই এতদিন কোন কিছুই। কোথাও এবং কোনদিন, এমন মানুষও হয়তো পৃথিবীতে থাকে। হয়তো তারা সাদা মনের মানুষ নয় কিন্তু তবু অন্তর-সাদা মানুষ। স্বাদ থাকলেও যাদের কোন সাধ্য নাই।ছিল হয়তো। কিন্তু সেটা ভিন্ন কাহিনী।  এদের ভিতরে অনেকেরই আবার ধর্মীয় মূল্যবোধের চূড়ান্ত অভাব। তাদের অনেকের ভিতরেই আবার মনুষত্ববোধ অতি প্রবল থাকে। মন...